চাটমোহর ডিগ্রি কলেজের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র , ফরম ফিলাপের দেড় মাস পর প্রকৃত সত্য আড়াল করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগ

চাটমোহর ডিগ্রি কলেজের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র ,
ফরম ফিলাপের দেড় মাস পর প্রকৃত সত্য আড়াল করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগ
+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
চাটমোহরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাটমোহর ডিগ্রী অনার্স কলেজের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের প্রায় দেড় মাস পর মানবিক বিভাগের এক ছাত্রী ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষনিক সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ মিজানুর রহমানকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে তদন্তও সম্পন্ন হয়েছে।
২০১৫-১৬ইং শিক্ষাবর্ষের মানবিক বিভাগের ছাত্রী মোছাঃ রাবেয়া খাতুন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত ৩১ জানুয়ারী লিখিত আবেদন করেন। আবেদন তিনি জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর ফরম ফিলাপ করতে গেলে পরীক্ষার ফি বাবদ তার নিকট থেকে ১১৭৭ নং রশীদ মূলে ৬ হাজার ৫’শ টাকা এবং ১০৮৯ নং রশীদ মূলে কোচিং ফি বাবদ ৩০০ টাকা (সর্বমোট ৬ হাজার ৮শ) টাকা জোরপূর্বক আদায় করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
ঐ ছাত্রী ৬ হাজার ৮শ’ টাকা দিয়েছে সত্য। তবে প্রকৃত সত্য হলো, রাবেয়ার কাছে কলেজের বকেয়া পাওনা ৭ হাজার ৮শ’ ৯৫ টাকা। এর মধ্যে ভর্তির বকেয়া ফি, মাসিক বেতন, বিদ্যুৎ, সেশন ফিসহ অন্যান্যফি বাবদ পাওনা ৪ হাজার ৩শ’ ৭০ টাকা। আর ফরম ফিলাপের জন্য শিক্ষাবোর্ড, কেন্দ্র ফি ও ব্যবহারিকসহ অন্যান্য পাওনা ৩ হাজার ৫শ’ ২৫ টাকা। রাবেয়া তার অভিযোগে একথা বলেননি যে, মোট ৭ হাজার ৮শ’ ৯৫ টাকার মধ্যে কলেজে জমা দিয়েছে ৬ হাজার ৮শ’ টাকা। সেই মোতাবেক রাবেয়া এখনো কলেজের বকেয়া রেখেছেন ১ হাজার ৯৫ টাকা।
১৮/১০/১৬ইং তারিখের কলেজ কর্তৃপক্ষের নোটিশ অনুযায়ী “উচ্চ মাধ্যমিক ১ম সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নাই বা অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হয়েছে অথচ ২য় বর্ষের ক্লাশ করছে তাদেরকে আগামী ৩১/১০/১৬ তারিখের মধ্যে কলেজের বকেয়া পাওনাদী পরিশোধ করে অধ্যক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রকাশ থাকে যে, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাকে এইচ.এস.সি চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না।”
রাবেয়া ১ম বর্ষের বার্ষিক পরীক্ষায় ৪ বিষয়ে ও নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে ফরম পূরণের অধিকার হারিয়েছেন। শীতকালিন ছুটির মধ্যে (এসময় অধ্যক্ষ মহোদয় চিকিৎসার জন্য চাটমোহরের বাহিরে অবস্থান করছিলেন) রাবেয়া জনৈক অভিভাবক সদস্য’র সহযোহিতায় ১ হাজার ৯৫ টাকা মওকুফ নিয়ে ১৮/১২/১৬ তারিখে ৬ হাজার ৮শ’ টাকা কলেজে জমা দেন।
টাকা জমা দেওয়ার দেড় মাস পর সেই ছাত্রী অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে সরাসরি ইউএনও মহোদয় বরাবর আবেদন করলেন। যদিও সেই আবেদন জমা দেন ঐ ছাত্রীর স্বামী। আবেদনের ফটোকপি স্থানীয় পত্রিকাগুলোতেও সরবরাহ করা হয়। আবেদন পেয়ে ইউএনও মহোদয় এসি (ল্যান্ড) মহোদয়কে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তও সম্পন্ন হয়। অনলাইন পত্রিকা ‘অনাবিল সংবাদ’ এ অতিরঞ্জিত সংবাদও প্রকাশ পায়। খুব দ্রুত’ই ঘটে আবেদনের পরবর্তী সময়গুলোর কর্মকান্ড।
অথচ ইতোপূর্বে দূর্বৃত্ত কর্তৃক রাতের আধারে কলেজের হাজার হাজার ফুলগাছ কেটে সাবাড় করে দিলেও কারো কাছেই কোন প্রতিকার মেলেনি। কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি, মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় আবেদন নিবেদন করলেও কোন কর্তৃপক্ষই বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে আসেননি।
অভিযোগে কোচিং না করিয়েই কোচিং ফি নেয়ার কথা ছাত্রী রাবেয়া উল্লেখ করেছে। কোচিং ফি নেয়া হয় ফরম ফিলাপের সময় আর কোচিং করানো হয় ফরম ফিলাপের পরে। এটা ছাত্রী রাবেয়া কি জানতেন না? কলেজের নোটিশ বোর্ডে ‘কোচিং রুটিন’ও ঝুলছে। এসব না দেখে, না বুঝে নাকি কারো চক্রান্তে ফাঁদে পা দিয়ে সে এমন অভিযোগ এনে কলেজের অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্থ করতে চাইছে এমন আলোচনাই শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
ফরম পুরণের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মিথ্যা অভিযোগ, পত্রিকায় অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ, রাতের আধারে হাজার হাজার ফুলের গাছ কর্তন ‘চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ’র বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে করছে সচেতন চাটমোহরবাসী।
চাটমোহর ডিগ্রি কলেজের সভাপতি পাবনা-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেনের নির্দেশনায়, গভর্নিং বডি’র সম্মানিত সদস্যদের প্রচেষ্টায় ও সময়ের সুযোগ্য অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ পরিচালিত হয়ে পাবলিক পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন, প্রাতিষ্ঠানিক, একাডেমিক, মনোমুগ্ধ পরিবেশ, শৃংখলাসহ সার্বিক দিক দিয়ে এগিয়ে চলেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার ঘোষনা অনুযায়ী জাতীয়করণের তালিকায় থাকা কলেজটির বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে কলেজের অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্থ করতে একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। যা সচেতন চাটমোহরবাসী কখনো হতে দিবে না। কলেজের অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্থ করতে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে সচেতন চাটমোহরবাসী।

Comments